করযোগ্য নাগরিকদের করদানে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ২৬ মে, ২০১২:

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ২৬ মে :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং কর বহির্ভূত আয়ের বেড়াজাল থেকে দেশকে মুক্ত করতে করযোগ্য সব নাগরিককে করদানে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে অন-লাইনে কর পরিশোধ পদ্ধতি উদ্বোধনকালে এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরও বলেন, ‘নিজ পায়ে দাঁড়াতে এবং নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির বিকল্প নেই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন বাস্তব পদক্ষেপের ফলে গত তিন বছরে দেশের প্রত্যক্ষ কর আদায়ে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে রাজস্ব আয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে এবং চলতি অর্থবছরেও ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই সাফল্য ধরে রাখতে করের আওতা এবং কর দাতাদের সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)’র সভাপতি এ কে আজাদও বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির জন্য কর প্রশাসন সংস্কার ও আধুনিকীকরণ এবং অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে কর পরিশোধ পদ্ধতি আরও সহজ করতে হবে এবং কর তথ্য ও সেবা কেন্দ্র চালু, কর মেলার আয়োজন এবং কর নীতি ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার আয়কর এবং মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইনকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকায় একটি আধুনিক রাজস্ব ভবন নির্মাণসহ আয়কর ও মূসক বিভাগ সম্প্রসারণের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন-লাইনের মাধ্যমে কর পরিশোধ পদ্ধতি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশ ডিজিটালাইজেশনের পথে আরও এক ধাপ অগ্রসর হলো। এই সাফল্যের সঙ্গে জড়িতদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এই পদ্ধতি বাংলাদেশে কর পরিশোধের সংস্কৃতি বিকাশে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। এশিয়ার অনেক উন্নত দেশে এখনো এ পদ্ধতি চালু হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন এ ব্যবস্থা কর যোগ্য সব নাগরিককে উৎসাহিত করার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তিনি কর দাদাতাদের চাহিদার ভিত্তিতে অনলাইন পদ্ধতির ক্রমাগত মানোন্নয়ন করার জন্যও সংশিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আপনাদের ইন্টারেক্টিভ ট্যাক্স ওয়েবসাইট-এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সেবাগ্রহীতাদের চাপ ধারণের সামর্থ্য অর্জন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্যাক্স ই-পেমেন্টের পাশাপাশি ট্যাক্স ই-ফিলিং ও ভ্যাট ই-পেমেন্টের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দী হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ এবং আইসিটি’ই পারে উন্নয়নের বহুমাত্রিক ধারা দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশাতাহারে আইসিটি’র ব্যাপক সামর্থকে কাজে লাগিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার করা হয়। তিনি বলেন, বিগত তিন বছরে এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার অনেক অগ্রসর হয়েছে। সারাদেশে আইসিটি সুবিধা সম্প্রসারণে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ই-গভর্নেন্স, ই-কমার্স, ই-হেলথ, ই-এডুকেশন, ই-ব্যাংকি ও ই-সার্ভিস চালু করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিদিনই আমরা ই-সেবার ক্ষেত্র ও পরিসর বিস্তৃত করছি। সব সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন অগ্রযাত্রার এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালের অনেক আগেই দেশের প্রতিটি মানুষ ডিজিটাল পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হবেন।। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ডিজিটাল যুগে বাস করছি এবং আমরা নেটওয়ার্ক সোসাইটি ট্রেনের যাত্রী। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একজনও যেন ট্রেন মিস না করে। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদেরকে আইসিটি জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং এর ব্যবহারের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সবার প্রতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী মন্দা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি, আমদানি-রপ্তানি, রেমিটেন্স, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ সামষ্টিক অর্থনীতির প্রায় সবগুলো সূচকই ইতিবাচক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষির ব্যাপক প্রসার ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছে। অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সাথে সাথে জনগণের আয় ও চাহিদা বেড়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ বাজার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অবকাঠামো খাতেরও উন্নয়ন করছি এবং বাংলাদেশ এখন সব দিক থেকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বে মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরে পধানমন্ত্রী অন-লাইনে তাঁর আয়কর পরিশোধের মাধ্যমে অন-লাইনে কর পরিশোধ পদ্ধতি চালু করেন।

Print Friendly

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*