বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ২৮ মে :
জাপান থেকে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে গত এক বছর ধরে কমপক্ষে ২ হাজার গাড়ি কোন পর্যবেক্ষণ ছাড়াই বাংলাদেশে ঢুকেছে। নামমাত্র গাড়ির চেসিস নং, ইঞ্জিন নং এবং সিরিয়াল নম্বরের পর্যবেক্ষণ সনদ নিয়ে দেশে গাড়ি আমদানি করেছে একটি অসাধু চক্র। এছাড়া কোন ধরণের পর্যবেক্ষণ সার্টিফিকেট ছাড়াই ৩৮০ টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি মংলা বন্দরে খালাসের সময় ধরা পড়ে।
এ অবস্থায় পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে গাড়িগুলো রাস্তায় চলাচলের উপযুক্ত কিনা, পরিবেশের জন্য কতটুকু সহায়ক এবং জাপান থেকে আমদানি হওয়ায় গাড়িগুলোর মধ্যে তেজস্ক্রিয়া রয়েছে কিনা সেসব জানতে অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবগত করেছে।
উল্লেখ্য, জাপান থেকে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ সার্টিফিকেট প্রদানের জন্য দুই বছর আগে আবেদন করে জাপান এক্সপোর্টাস ভেহিক্যালস ইন্সপেকশন সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড (জেভিক)। কিন্তু নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এখনো আলোর মুখ দেখেনি জেভিকের পর্যবেক্ষণ সার্টিফিকেট কার্যক্রম।
উল্টো রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির অসাধু চক্রটি মানহীন গাড়ি বাংলাদেশে আনার জন্য কোম্পানিটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা বলছে, জেভিকের সনদ পেতে হলে বাংলাদেশী গাড়ির মালিকদের অতিরিক্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করতে হবে।
এদিকে, জেভিকের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ফেরদৌস আলম রাজু বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এ ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে। মূলত জেভিকের পর্যবেক্ষণ সনদ পেলে কোন খারাপ, নষ্ট বা মানহীন গাড়ি বাংলাদেশে ঢুকতে পারবে না। ২২ টি পরীক্ষার মাধ্যমে দেয়া সনদ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। যার মাধ্যমে গাড়িটি রাস্তায় চলাচলের জন্য কতটুকু ফিট তা জানা যাবে। যেখানে গাড়িটিতে কোন ধরণের তেজস্ক্রিয়া রয়েছে কিনা তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ সার্টিফিকেট পেতে সর্বসাকুল্যে খরচ পড়বে ৮ হাজার টাকা মাত্র। এই টাকা গাড়ির মালিক বা বাংলাদেশ সরকারকে দিতে হবে না। জাপান থেকে যে প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে গাড়ি রপ্তানি করবে তারাই এ সনদ নিতে বাধ্য থাকবে। খরচও তাদেরই বহন করতে হবে বলে জানান রাজু।
তিনি আরো বলেন, অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় গত এক বছর ধরে জেভিকের কার্যক্রম শুরু হয়নি। এটা শুরু হলে মংলা বন্দরে আটক ৩৮০ টি পর্যবেক্ষণহীন গাড়িসহ কমপক্ষে ২ হাজার রিকন্ডিশন্ড গাড়ি জাপান থেকে আসতেই পারতো না।




