ভেজাল দিয়েই ভেজাল রোধ

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ৩০ মে, ২০১২:

মেহেদী হাসান আলবাকার
বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ৩০ মে :

ভেজালে সয়লাব পুরো দেশ। খাদ্যে, প্রসাধনী, যন্ত্রপাতি, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী- সবকিছুতেই ভেজাল। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ভেজাল আমাদের আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলেছে। এ থেকে পরিত্রানের উপায় নেই। কারণ এই সব ভেজাল যারা ধরবেন তাদের ভেতরে তো আরও বেশি ভেজাল। তাই এক্ষেত্রে সরকারের কোনো পদক্ষেপই খুব একটা কাজে আসছে না। এখন এ ভেজাল প্রতিরোধে একটাই পথ  খোলা রয়েছে তা হলো আমাদের ভেজালের মধ্যেই ভেজাল দিতে হবে।

অর্থাৎ যেসব রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে খাদ্যে ভেজাল দেয়া হচ্ছে সে রাসায়নিকেই ভেজাল মিশিয়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে ফরমালিনের কথাই ধরা যাক। এ রাসায়নিক পদার্থটি মূলত গবেষণাগারের কাজের জন্য ব্যবহুত হয়। কোন উদ্ভিদ বা প্রাণিকে পচনের হাত থেকে রক্ষা করাই এর কাজ। কিন্তু একশ্রেণীর ব্যবসায়ী এ রাসায়নিকটি এখন দেদার ব্যবহার করছে । মাছ, শাকসবজি, ফলমূল সবকিছুকেই মেশানো হচ্ছে এই ফরমালিন।

মানব দেহের জন্য ফরমালিন খুবই ক্ষতিকর। এ রাসায়নিকটি ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা পণ্যের পচন ঠিকই ঠেকাতে পেরেছেন । কিন্তু এতে ব্যাপক হারে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন । ফরমালিন যুক্ত খাবার খেয়ে কেউই সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ হচ্ছেন না, তবে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন জটিল কোন রোগ সংক্রমণের দিকে।

এ ফরমালিন প্রতিরোধে সরকার অনেক পদক্ষেপই নিয়েছে । কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কারণ যাদের এ ফরমালিন পরীক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা যে কতটা ভোজাল মুক্ত তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।

এ থেকে পরিত্রাণের একটাই উপায়। তা হলো শুধুমাত্র গবেষণাগারসহ যেসব জায়গায় ফরমালিন প্রয়োজন সেসব জায়গায় বিশুদ্ধ ফরমালিনের ব্যবস্থা করে বাকি সব ফরমালিনের মধ্যেই ভেজাল মেশাতে হবে । যখন ব্যবসায়ীরা দেখবে ফরমালিন ব্যবহার করে যদি মাছ বা শাক-সবজির পচনই ঠেকানো যাচ্ছে না তখন তারা এর ব্যবহার বন্ধ করে দিবে।

আর এ কাজে প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও ব্যবহার করা যেতে পারে । বাংলাদেশে যারা ফরমালিন বাজারজাত করছে, তাদের আগামী এক বছরের জন্য ভেজাল ফরমালিন বাজারজাতকরণে বাধ্য করা হলেই খাদ্যদ্রব্যে এর ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষেরও মুক্তি মিলবে এর বিষক্রিয়ার হাত থেকে।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*