বৈদেশিক অর্থছাড় দ্রুত করতে সরকার ও দাতারা এক সঙ্গে কাজ করবে

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ১৪ জুন, ২০১২:

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ১৪ জুন :

ক্রয় সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণ ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি সহজ করে বৈদেশিক অর্থছাড় দ্রুত করতে এক সঙ্গে কাজ করবে সরকার দাতারা। এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেছে বলে জানা গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত লোকাল কন্সালটেটিভ গ্রুপের (এলসিজি) বৈঠকে এসব বিষয়ে একমত হয়।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. ইকবাল মাহমুদ বলেন, এ বৈঠকে নীতিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা নানা সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু বা নিদিষ্ট কোন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়নি। বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর এ্যালেন গোল্ড স্টেইন বলেন, এটি যেহেতু পদ্মা সেতু নিয়ে কোন বৈঠক নয়, তাই এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করছি না।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে বৈদেশিক সহায়তার আওতায় প্রতিশ্রুত প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার দীর্ঘদিন পাইপ লাইনে আটকে আছে। দিন দিন প্রতিশ্রুতি বাড়লেও বৈদেশিক অর্থছাড় কমেছে।

দাতাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা না থাকার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জনানো হয়েছে, উন্নয়ন সহযোগীদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মূল কারণ। এসব বিষয়ে একটি কার্যকর সমাধানে আসতে চায় সরকার।

এ প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত এলসিজি বৈঠকে কো-চেয়ারের দায়িত্ব পালন করেন, ইআরডির সিনিয়র সচিব ড. ইকবাল মাহমুদ এবং বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর এ্যালেন গোল্ডস্টেইন।

এবারের এলসিজি বৈঠকে তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এগুলো হলো- প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণ এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি, বাংলাদেশের ক্রয় প্রক্রিয়া এবং গত এলসিজি বৈঠকের গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা।

বৈঠকে বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক, কাউন্সিলর ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফর সাউথ এশিয়া, অষ্ট্রেলিয়ান এজেন্সী ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমন্ট, সিডা, ডেনমার্ক সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রতিনিধি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মান সরকারের পক্ষে প্রতিনিধি , ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, জাপান সরকারের পক্ষে জাইকার প্রতিনিধি, কোরিয়া সরকারের পক্ষে প্রতিনিধি, নেদারল্যান্ড সরকারের পক্ষে প্রতিনিধি, নরওয়ে সরকারের পক্ষে প্রতিনিধি, স্পেন সরকার, সুইডেন সরকার, সুইজারল্যান্ড সরকার এবং  ইউনাইটেড কিংডোমের পক্ষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ইউনাইটেড নেশনস এর পক্ষে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী, ইউনাইটেড স্টেটস এর পক্ষে সহকারী মিশন পরিচালকসহ অন্যান্য দাতাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তার আগে সর্বশেষ ২০১০ সালের ৭ নবেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠকের ফলোআপ হিসেবে এলসিজি বৈঠক।

ইআরডির দায়িত্বশীল উচ্চ পদস্থ এক কর্মকর্তা  জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের দশ মাসে বৈদেশিক সহায়তার রেকর্ড প্রুতিশ্রুতি এসেছে । অর্থছাড়ও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ভাল হয়েছে। কিন্তু সেটি কাঙ্খিত নয়।

এ প্রেক্ষিতে আগামী অর্থবছরের নতুন বাজেটে বৈদেশিক সহায়তার আকার বাড়িয়ে ধরা হয়েছে  ২১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।  যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির বৈদেশিক সহায়তা অংশের চেয়ে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং মূল এডিপি থেকে ২ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা বেশী। বৈদেশিক অর্থব্যয়ের এ লক্ষ্য পূরণ করতে হলে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের বিকল্প নেই। তাই দাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে বর্তমানে প্রতিশ্রুতি ব্যাপক থাকলেও বৈদেশিক অর্থছাড়ের করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে এর আকার কমানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে ৩৭৭টি প্রকল্পের বিপরীতে বৈদেশিক সাহায্যের মোট বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। এ বরাদ্দ থেকে  ৩ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা বাদ দিয়ে  ১৫ হাজার কোটি  টাকা করা হয়েছে।

Print Friendly

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*