বন্ড মার্কেট থাকলে পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট কেটে যাবে

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ১৯ জুন, ২০১২:

বন্ড মার্কেট থাকলে পুঁজিবাজারে আজ যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে তা কেটে যেত বলে মনে করেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও এএনএফ সিকিউরিটিজ লিমিটেডের এমডি শামসুল হুদা।

আজ সোমবার বিজনেসটাইমসের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, সরকার যদিও বন্ড ছাড়ছে তবুুও তা মার্কেট ফ্লোয়েটেড নয়।  আমাদের  জিডিপিতে স্টক মার্কেটে বন্ড কনট্রিবিউশন ১৩ শতাংশ বা ১৪ শতাংশের বেশি নয়। খুব বেশি হলে ১৫ শতাংশ।

শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এএনএফ সিকিউরিটিজ লিমিটেডের এমডি  শামসুল হুদা মুখোমুখি হন বিজনেসটাইমসের রিপোর্টার কল্পনা আলমের সঙ্গে।

বিজনেসটাইমস : বাজারতো আস্থা ফিরে পাচ্ছে না এর পেছনে কি কারণ আছে বলে আপনি মনে করছেন ?

শামসুল হুদা : আমাদের পুঁজিবাজার আস্থা ফিরে পাচ্ছে না এটি একটি বড় সমস্যা। মার্কেট এখন যে অবস্থানে আছে প্রতিদিনই বাজার পড়ছে। আজ যারা বিনিয়োগ করছে পরের দিনেই তা আবার কমে যাচ্ছে। আমাদের মার্কেট ইক্যুইটি বেইজ। এই ইক্যুইটি বেইজ মার্কেটে পড়ে বলে বিক্রির চাপ বাড়ে। আবার মিশ্র বাজার বা ইক্যুইটি প্লাস যখন মার্কেটে পড়ে তখন ইন্টারেস্ট বাড়ানোর জন্য কেনার চাপও বাড়ে। আমাদের একটি সমস্যা হচ্ছে যখন মার্কেট পুঁজি হারাচ্ছে তখন টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এ টাকা ব্যাংক, রিয়েল এস্টেট অথবা অন্য খাতে চলে যাচ্ছে। আমরা ভারতে দেখি তাদের জিডিপিতে স্টক মার্কেটে বন্ড কনট্রিবিউশন ৪১ শতাংশ বা ৪২ শতাংশ। এদেশে আমি হয়তো এর সঠিক হিসাব জানি না।  তবে বন্ড কনট্রিবিউশন ১৩ শতাংশ বা ১৪ শতাংশের বেশি নয়। খুব বেশি হলে ১৫ শতাংশ। তবে বন্ড মার্কেট থাকলে বাজারে আজ যে আস্থার সমস্যা সেটা আর থাকত না।

বিজনেসটাইমস : আজ বেশ কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে বাজারে লেনদেন কমে যাচ্ছে এর পেছেনে কি কারণ রয়েছে?

শামসুল হুদা : আমি আগেই একটা কথা বলেছি প্রতিনিয়তই পুঁজিক্ষয় হচ্ছে। মার্কেট ভলিউম অর্ধেক হয়ে যাচ্ছে। আগে যেখানে শেয়ারের দাম একশ টাকা ছিল এখন তা পঞ্চাশ টাকায় চলে আসছে। পুঁজিক্ষয় হওয়ার কারণে লেনদেনও কমে যাচ্ছে। তাছাড়া এখানেতো বন্ড মার্কেট নেই। এ কারণে ফান্ড তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আর ফান্ড তুলে নেওয়ার কারণে টাকার পরিধিও কমে যাচ্ছে।  ফলে বাজারে লেনদেন কমে যাচ্ছে। লেনদেন কমার আর একটি কারণ হলো ব্যাংক ইন্টারেস্ট।  ইন্টারেস্ট যত কমছে লেনদেনের পরিমাণও তত কমছে।

বিজনেসটাইমস  :  এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারে যে সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে সেটি যথাযথ হয়েছে বলে আপনি কি মনে করছেন ?

শামসুল হুদা : এবারের বাজেট নিয়ে অনেক বিতর্কই রয়েছে। পুঁজিবাজারের সঙ্গে বাজেটের সম্পর্ক খুবই নিবিড়। ভারত পুঁজিবাজারের উপর ৪০ শতাংশ নির্ভর করে কারণ সেখানে বন্ড মার্কেট আছে। আমাদের এখানে যখন বন্ড মার্কেট শুরু হল তখন কিন্তু আমরা ভুল করে গেছি। বাজেট দুই ধরনের একটি হল- বেতন ভাতা দেবার জন্য আরেকটি হচ্ছে উন্নয়নের জন্য। উন্নয়ন খাতে যখন আপনি ব্যয় বাড়াবেন তখন আপনি অবকাঠামোগত উন্নয়ন করবেন। ট্রেজারি বন্ড এবং  কমার্শিয়াল বন্ড এখানে মিলে গেছে। কমার্শিয়াল উদ্দেশ্যে ট্রেজারি বন্ডের সাপোর্ট দেওয়া উচিত নয়। ট্রেজারি বন্ডে আমার-আপনার সবারই কর আছে। ট্রেজারি বন্ডটা হলে ইল্যুয়েশন কম হবে। ট্রেজারি বন্ড যত আপনাকে ইল্যুয়েশন সাপোর্ট দিচ্ছে ততো আপনার অপব্যবহারটা বেশি হচ্ছে। এখানে আমার খরচ যত বাড়বে ধরুন আমি বিমানকে টাকা দিচ্ছি, বিটিএমসিকে টাকা দিচ্ছি, অন্যকে টাকা দিচ্ছি। এই টাকাগুলো কিন্তু আমি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে দিচ্ছি। এতে করে ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের পরিধি ছোট হয়ে আসছে। তারপরও আমি বলবো বাজেটে সরকার আমাদের যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে।

বিজনেসটাইমস  :  নতুন সফটওয়্যার এমএসএ প্লাসের জন্য মার্কেটে কি টার্নওভার কমে যাচ্ছে বলে আপনি মনে করেন ?

শামসুল হুদা : নতুন সফটওয়্যারের একটি সমস্যা হলো এটা স্লো। আগেরটা অনেক ফাস্ট ছিল। নতুন সফটওয়্যারটাতে টার্নওভার করতে সময়টা একটু বেশি নেয়। এটা যেহেতু নতুন তাই শেখার জন্য অবশ্যই সময় প্রয়োজন। বাজারের অনেকেই এখনও এটা পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি। তবে আমি বলবো  এই সফটওয়্যারটা চালু করার আগে আরো প্রশিক্ষণের দরকার ছিল।

বিজনেসটাইমস  :  জুলাইয়ের শেষের দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে মার্কেটে কি রকম প্রভাব পড়তে পারে?

শামসুল হুদা : মুদ্রানীতি ঘোষণার ফলে পুঁজিবাজারে কি রকম প্রভাব পড়বে এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। আমাদের যদি বন্ড মার্কেট থাকত তবে অনেক কিছুই পরিষ্কার করে বলা যেত।

বিজনেসটাইমস  : ২১ জুন দুই সিসি ধারা এসইসির পক্ষে রায় হল সেটা বাজারে কতটুকু প্রভাব ফেলেছে বলে আপনি মনে করেন ?

শামসুল হুদা : বাজারে যেসব পরিচালক শেয়ার বিক্রি করছে দুই শতাংশ শেয়ার না থাকায় সেখানে একটি আইনের প্রয়োজন ছিল। দুই শতাংশ শেয়ার না থাকায় পরিচালকরা বাজারে থাকতে পারছে না কারণ কোরাম সংকট হচ্ছে। এই কোরাম সংকটের জন্য নির্বাচন হতে পারছে না। সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। শেয়ারহোল্ডারদের একটি প্লাটফর্ম তৈরি করতে হবে। বাইরে যারা দুই শতাংশ ধারণ করছে তারা যেন পরিচালক হওয়ার জন্য এগিয়ে আসতে পারে।

বিজনেসটাইমস  :  পুঁজিবাজারকে গতিশীল করার জন্য এবং বিনিয়োগকারীদের বাজারে ফেরানোর জন্য কি করা উচিত বা তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি ?

শামসুল হুদা : মার্কেটকে স্থিতিশীল করতে হবে। মার্কেট পর্যায়ক্রমে পড়ে যাচ্ছে। এখন এসইসিকে কঠোর হস্তে সব কিছু তদারকি করতে হবে। যে সকল ফান্ড রয়েছে সেগুলো শক্তভাবে তদারকি করতে হবে। যাদের ফান্ড রয়েছে তাদের বিনিয়োগ করার জন্য উৎসাহিত করতে হবে। মার্কেট যদি না পড়ে যদি একটি ছকে আটকে থাকে তবে অনেকে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*