১৪ হাজার ১৩০ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ২১ জুলাই, ২০১২:

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ২১ জুলাই :

কৃষি খাতকে আরো উন্নয়নের লক্ষ্যে গত অর্থবছরের তুলনায় এবার প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে কৃষি বা পল্লী ঋণ বিতরণে। চলতি অর্থবছর কৃষি বা পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ হাজার ১৩০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে গত অর্থবছর এ খাতে ১৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কৃষকরা যেন আরো সহজে ব্যাংক ঋণ পায় সে লক্ষ্য নিয়ে আগামী ২৪ জুলাই চলতি অর্থবছরেরর কৃষিঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এ কৃষি নীতিটি বিগত বছরগুলোর তুলনায় আরো সহজ নির্দেশনা সংবলিত এবং তা কৃষকবান্ধব। আগামী অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও উল্লেখ থাকছে এখানে। আসছে কৃষি নীতিতে প্রচলিত ধারায় যে ভুট্টা চাষের জন্য ৪ শতাংশ হারে কৃষি ঋণ দেয়া হতো তা অব্যাহত থাকছে। একই সঙ্গে অনুৎপাদনশীল খাতে কৃষি কাজকে নিরুৎসাহিত করার জন্য আমদানি বিকল্প ডাল, তেলবীজ, আদা, হলুদসহ মসলাজাতীয় ফসল চাষে কৃষকদের  ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদে ঋণ বিতরণ চালু থাকছে।

এদিকে আগের মতোই ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ দেয়ার নির্দেশনা থাকছে নীতিমালায়।  আর এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বিস্তারিত তথ্য জমা দিয়ে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এছাড়া ঋণ বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সুযোগ সুবিধাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এবং এই নীতি কৃষি সহায়তা খাত হিসেবে সেচ ও কৃষি যন্ত্রপাতি এবং সৌরচালিত সেচ পাম্প স্থাপনে ঋণ বিতরণে গুরুত্ব দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষি ও আর্থিক সেবাভূক্তি বিভাগের একজন উপমহাব্যবস্থাপক বলেন, এবারের কৃষিনীতিতে কয়েকটি খাতকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। তার মধ্যে অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণ প্রবাহ কমানো অন্যতম।

তিনি জানান, ব্যাংকগুলোর অনেক সময় ঋণ জালিয়াতি থাকা সত্ত্বে নিয়ম কানুনের বেড়াজাল ভেদ করে ব্যবস্থা নেয়া যায় না। এবারের কৃষিনীতিতে সেই দিকটি নজর দেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, ইতিমধ্যে কৃষকদের ১০ টাকার বিনিময়ে খোলা ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে ঋণ দেয়ার জন্য ব্যাংকগুলোর প্রতি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আবার  কৃষি নীতিমালায় সেচ প্রকল্প পরিচালনা করার জন্য কৃষকরা যেন সৌরশক্তি ব্যবহার করে সেই ব্যাপারে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হবে। এ ছাড়া কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যেখানে ব্যাংকগুলো দক্ষতার পরিচয় দিলে তাদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাংকের ক্যামেলস্ রেটিং ও তারল্য সহায়তার দিকটি বিবেচনায় নেয়া হবে ।

উল্লেখ্য, গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের উপস্থিতিতে এ নীতিমালা ও কর্মসূচি আগামী ২৪ জুলাই ঘোষণা  করা হবে।

Print Friendly

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*