বিজনেসটাইমস২৪.কম
মৌলভীবাজার, ০২ আগস্ট:
গত মৌসুমে বিপর্যয়ের পরও এবার মৌলভীবাজারে একাধিক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ধারদেনা করে আমন চাষ করছেন কৃষকরা। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
কৃষকরা বলছেন, এবার আমন উৎপাদনে কোনো বিপর্যয় অথবা ধানের ন্যায্য দাম না পান, তাহলে তাদের দুর্ভোগের কোনো শেষ থাকবে না।
মৌলভীবাজারে গত মৌসুমে প্রথমে খরা ও পরে বন্যায় আমন এবং বোরো এ দু’টি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়া নামেমাত্র মূল্যে ৪০০/৪৫০ টাকা মণদরে বিক্রি করে দেন। এতে অধিকাংশ কৃষক তাদের চাষাবাদের খরচও উঠাতে পারেনি।
এরপরও কৃষকরা আমন ও বোরোর উৎপাদন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে এবং ঋণের টাকা পরিশোধের আশায় বিভিন্ন পন্থায় টাকা সংগ্রহ করে পুনরায় বোরো চাষাবাদ করলে বিপর্যয় দেখা দেয় । এতসবের পরও কৃষকরা বুকভরা আশা নিয়ে আমন চাষাবাদে হাত দিয়েছেন।
কৃষি বিভাগ বলছে, জেলায় এ বছর প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৩০০ হেক্টরের বেশি জমিতে আমন চাষাবাদ শেষ হয়েছে। আগামী ভাদ্র মাসের শেষ পর্যন্ত এই চাষাবাদ চলবে।
তারা আরো জানায়, এ বছর উফশী ও স্থানীয় জাত মিলে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯০ হাজার ৫৩০ হেক্টর। ধানের উৎপাদন ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রতি হেক্টরে উফশী জাত ২ দশমিক ৭২ মেট্রিক টন এবং স্থানীয় জাত ১ দশমিক ৫৯ মেট্রিক টন উৎপাদন ধরা হয়েছে। তবে ধানের উৎপাদন খরচ নিয়ে কৃষকদের মনে নেই কোনো স্বস্তি।
একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, তারা চাষাবাদ একেবারে ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবছেন। ধারদেনা করে চাষাবাদের পর ধানের প্রকৃত মূল্য তারা পাচ্ছেন না।
এদিকে জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল জলিল মিয়া বলেন, এ অঞ্চলে অতি বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে মৌলভীবাজারকে অবহিত করেছেন।
তবে কৃষকরা একাধারে ধানের উৎপাদন খরচ ওঠাতে না পারলে, ভবিষ্যতে এর মারাত্মক প্রভাব দেখা দেবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।




