তিন সপ্তাহের মধ্যে মালয়েশিয়ার চূড়ান্ত প্রস্তাব

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ০৫ আগস্ট, ২০১২:

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ০৫ আগস্ট:

মালয়েশিয়া পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়ে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে বলে জানিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের‌। তিনি বলেছেন, দেশটির পক্ষ থেকে নির্মাণ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বিভিন্ন কনসেশন সম্পর্কে একটি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। সেখানে অনেক বিষয়ে ছাড় দেয়া হয়েছে।

রোববার যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে মালয়েশিয়া সরকারের দক্ষিণ এশিয়ার অবকাঠামোবিষয়ক বিশেষ দূত এস সামি ভেলুর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বৈঠকে তারা নির্মাণ ব্যয় ও লাভ ক্ষতির হিসাবসহ একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে। সরকার তাদের নির্মাণ প্রস্তাবনা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে সমান সুবিধাজনক অবস্থায় (উইন-উইন সিচুয়েশন) পৌঁছাতে পারলেই চুক্তি করা হবে।’

এসময় প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ দলের সাথে কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে বলেও জানান।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসছে কি না, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘সরকার এক বিন্দুও সরেনি। দেশি অর্থায়নেই পদ্মা সেতু হবে। তবে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য আমাদের ডলারও লাগবে। সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কোনো দেশ বা সংস্থা এগিয়ে এলে তাদের সহায়তা আমরা গ্রহণ করব।’

এসময় সেতু বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ও পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, যোগাযোগমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পরে পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে মালয়েশিয়ার বিশেষ দূত অর্থমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন।

তবে এ বিষয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আমি কিছু বলব না। যা বলার যোগযোগমন্ত্রীই বলবেন।

যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত ১০ এপ্রিলে কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। গত ২৮ জুন পদ্মা সেতু নির্মাণে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে মালয়েশিয়ায় পক্ষ থেকে একটি খসড়া প্রস্তাব সরকারকে দেওয়া হয়।

গত ২৯ জুন দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়ার দাবি তুলে বিশ্ব ব্যাংক ২৯০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পে ঋণ বাতিল করে। এই প্রকল্পে তাদের ১২০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা ছিল।

এ প্রকল্পে ঋণ দাতা দুই সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) তাদের চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছে।

Print Friendly

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*