শিরোনাম:

পুলিশ ও র‌্যাবকে জাল নোট সনাক্তকারী মেশিন দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ০৫ আগস্ট, ২০১২:

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ০৫ আগস্ট :

জাল নোটের ব্যাপারে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাজারে যাতে জাল নোট ছড়িয়ে না পড়ে সেদিকে নজর রাখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে জাল নোট বিষয়ে এক মতবিনিময় সভয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসব বিষয় জানানো হয়।

এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নকে (র‌্যাব) ২৫টি জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এডিসি মশিউর রহমান ও র‌্যাবের সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামানের হাতে এসব মেশিন হস্তান্তর করেন।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক দাশগুপ্ত অসীম কুমার, কারেন্সি ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম, গভর্নর সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক এএফএম আসাদুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় দাশগুপ্ত অসীম কুমার বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে প্রতি বছর নতুন নোট বাজারে ছাড়া হয়। এ সময় জাল নোট তৈরি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তবে কোনোভাবেই তাঁরা আসল নোটের কপি করতে পারে না। এ সব চক্র কেবল নোটের রং কপি করতে পারলেও গ্রেড, জল ছাপ, ওভিআই ও বিশেষ কালি কপি করতে পারে না। তাছাড়া নকল নোট কিছুটা মসৃণ হয়, আর আসল নোট হয় অমসৃণ।’

দাশগুপ্ত অসীম কুমার আরও বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে  ৫০০  ও ১০০০ টাকার নোট জাল করতে দেখা যায়। তাই এসব নোট ব্যবহারে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর প্রত্যেকটি শাখায় জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ কাজে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সই দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং তাঁদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও জানান, জাল নোট প্রতিরোধে প্রাথমিকভাবে শহরগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া থানা পর্যায়েও এই আন্দোলন জোরদার করার চেষ্টা চলছে।

এ সময় ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম বলেন, ‘অসচেতনার কারণে জাল নোট ব্যাংকিং চ্যানেলে যেতে পারে। তবে শুধু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে এটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।’

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এডিসি মশিউর রহমান বলেন, ‘যে কোনো ব্যক্তি বেশি পরিমাণে টাকা উত্তোলন করতে চাইলে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট থানায় পুলিশ স্কোয়াডের জন্য আবেদন জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ওইসব থানা থেকে পুলিশ দিয়ে সহায়তা করা হবে।

এ ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া জাল নোট শনাক্তকরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ততপর রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Print Friendly

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*