পাটের মূল্য না পেয়ে কৃষক হতাশ

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ০৫ আগস্ট, ২০১২:

বিজনেসটাইমস২৪.কম
কুষ্টিয়া, ০৫ আগস্ট :

কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় হাটবাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু ক্রেতার অভাবে বাজার মূল্য একেবারেই পড়ে যাওয়ায় কৃষকরা হতাশ।

আর এই সুযোগে স্থানীয় হাটবাজারে ফড়িয়া, বেপারি ও দালালরা কৃষকদের ঠকিয়ে কম দামে পাট কিনছে। সরকারী পাট ক্রয় কেন্দ্রগুলো চালু না হওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে কৃষকরা জানান।

স্থানীয় কৃষকরা জানায়, গত বছর একই সময়ে যে পাটের মূল্য মান ভেদে মণ প্রতি এক হাজার ৬৫০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে, এবার সেই পাট বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩৫০ টাকা দরে।

এ অবস্থায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে হাট থেকে পাট ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জেলার সব হাটে একই অবস্থা। গত বছর পাটের মূল্য বেশি পাওয়ায় এবার কৃষকরা বিপুল উৎসাহ নিয়ে পাট চাষ করেছিলেন। কিন্তু এখন তারা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে।

কৃষক আবদুস সালাম জানান, অনেক আশা ছিল বেশি দামে পাট বিক্রি করতে পারব। কিন্তু বাজারে এসে ক্রেতা না পাওয়ায় টাকার প্রয়োজনে ব্যাপারিদের কাছে কম দামে পাট বিক্রি করে দিতে হচ্ছে।

আরেক কৃষক ছহিম উদ্দিন বলেন, সামনে ঈদের কেনাকাটা করতে হবে এ আশায় হাটে পাট নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু বাজারে ক্রেতা না থাকায় বাড়িতে ফেরত নিয়ে যেতে হয়েছে।

এদিকে কৃষক বুলবুল বলেন, গত বছর আশানুরূপ দাম পাওয়ায় কৃষকরা এ বছর পাটের আবাদে ঝুঁকে পড়ে। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি পাট উৎপাদন হবে।

তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি ক্রয় কেন্দ্রগুলো চালু না হওয়ায় পাট চাষীরা বিপাকে পড়েছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, এবার জেলায় ৩৪ হাজার ৪৭৩ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে চাষ হয়েছে অনেক বেশি। এর মধ্যে তোষা এবং দেশি জাতের পাট জমিতে চাষ করা হয়। উৎপাদিত পাট নিয়ে কৃষকরা এখন বিপাকে। কোথায় এ পাট বিক্রি হবে তা নিয়ে কৃষকরা এখন দুশ্চিন্তায়।

জেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানায়, কৃষকদের উন্নত মানের বীজ কেনার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি  প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিয়ে উৎসাহিত করায় পাট চাষের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে। আমরা আশাবাদী কৃষকরা পাটের ন্যায্যমূল্য পাবে।

Print Friendly

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*