বিজনেসটাইমস২৪.কম
ডেস্ক, ০৮ আগস্ট :
ফকল্যান্ড দ্বীপ থেকে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের জন্য আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি ওয়াইপিএফের সঙ্গে আলোচনা করছে ভেনিজুয়েলার তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ। গত রোববার আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র প্যাজিনা১২কে এ কথা জানান পিডিভিএসএর প্রেসিডেন্ট রাফায়েল রামারিজ কারেনো। খবর এএফপির।
তিনি বলেন, ‘ফকল্যান্ডের পার্শ্ববর্তী ভূখণ্ড ও উপকূল অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমরা আলোচনা করেছি। তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের সময় ও ব্যয়ের বিষয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে। অবশ্য আর্জেন্টিনায় বিনিয়োগ করতে পারলে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ দুটির মধ্যে যৌথ উদ্যোগে আরও কাজ করা যাবে।’
কারেনো জানান, তিনি এ বিষয়ে ওয়াইপিএফের প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল গালাকসিওর সঙ্গে কথা বলবেন। এ জন্য তারা আগামী বুধবার আর্জেটিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে বৈঠক করবেন। তবে ওয়াইপিএফ থেকে শেয়ার উঠিয়ে নেয়ার পর রেপসল তাদেরকে নানাভাবে হুমকি দিয়েছে। এ কারণে তারা এ বিষয়ে ‘সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছেন।’ ওয়াইপিএফকে আক্রমণ করার আগে রেপসলকে এ বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে ভাবতে হবে।
কোম্পানিটির মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান রিক্স বলেন, ‘রেপসল থেকে অবৈধভাবে দখল করা যেকোনো সম্পদ বা বিনিয়োগকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার রাখি আমরা।’
চলতি বছরের এপ্রিলে আর্জেন্টিনা সরকার ওয়াইপিএফে থাকা স্পেনের রেপসলের ৫১ শতাংশ শেয়ার জব্দ করে এবং প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা নিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়। তখন আর্জেন্টিনার এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ।
কারেনো বলেন, ‘ওরেনকো বেল্ট নামে আমাদের একটি তেলসমৃদ্ধ খনি রয়েছে। এখান থেকে দৈনিক ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল উত্পাদন করা হয়। আমরা এ উত্পাদন বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল করার পাশাপাশি আরেকটি তেল ক্ষেত্র উন্নয়ন করতে চাই। নতুন এ তেল ক্ষেত্র থেকে ২ লাখ ব্যারেল তেল উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি আমরা।’
ভেনিজুয়েলার পশ্চিমাঞ্চলে ২১ হাজার ৩৫৭ স্কয়ার মাইল এলাকাজুড়ে এ ওরেনকো বেল্ট। এখানে মোট ২৩ লাখ ৫ হাজার ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে।
ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনা থেকে দূরবর্তী এবং বিতর্কিত একটি দ্বীপপুঞ্জ। দ্বীপটি নিয়ে ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। গত বছর এ যুদ্ধের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ বিরোধ আবার নতুন করে দেখা দেয়। এর অংশ হিসেবে ফকল্যান্ডের তেল উত্তোলন স্থানের দিকে ব্রিটেন পানির বাঁধ খুলে দেয়ার পদক্ষেপ নেয়।




