বিজনেসটাইমস২৪.কম
ডেস্ক, ১১ আগস্ট :
দুবাইয়ে আবাসন খাতের বাজার দ্রুত পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি এখানে বৈদেশিক বিনিয়োগের হারও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুবাই এখন বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য আদর্শ স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেসের।
দুবাইয়ের সিটিগ্রুপের মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিবিদ ফারুক সসা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য, রাশিয়া, পাকিস্তানসহ এশিয়ার অনেক দেশের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের নিরাপদ স্থান হিসেবে দুবাইকেই বেছে নিচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশটির আবাসন খাতের বিনিয়োগ যুক্তিসঙ্গতভাবে বাড়ছে।
গত বছর দুবাইয়ের অর্থনীতির মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) ১৩ শতাংশ অবদান রেখেছিল আবাসন খাত। ফলে ঋণ কার্যক্রম পুনর্গঠন হওয়ায় রাষ্ট্রীয় কোম্পানির ওপর থেকে চাপ কমতে পারে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার বুর্জ খলিফাতে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক জায়গা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিকরাই সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন।
দুবাই সরকারের তথ্য অনুযায়ী, টাওয়ারে মোট ২২ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে শীর্ষে রয়েছে ভারত। ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ইরান।
এ ছাড়া দুবাই সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের প্রথমার্ধে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ৭৭০ কোটি ডলার আবাসন খাতে বিনিয়োগ করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি। এনবিকে ক্যাপিটালের দুবাইভিত্তিক অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট লয়িক পেলিছেট বলেন, দুবাইয়ের সম্পত্তির বাজার ক্রমেই উন্নত হচ্ছে।
তবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দুবাইয়ের আবাসন খাত ইতিবাচক হলেও সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার হয়নি। আবাসন খাতের এজেন্ট নাইট ফ্রাঙ্কের বৈশ্বিক শহরগুলোর সূচকে দেখা যায়, দুবাইয়ে অ্যাপার্টমেন্টের দাম বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৫ শতাংশ বেড়েছে, যা ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্সপারোর স্ট্র্যাটেজিস্ট গ্রাহাম স্টক বলেন, বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই দুবাইয়ের আবাসন ব্যবসা উন্নত হচ্ছে। এটি মূলত আবাসন খাতে বিদেশী বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়ায় সম্ভব হয়েছে।
প্রোপার্টি কনসালট্যান্ট সিবিআরইর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে দুবাইয়ের অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া বেড়েছে আনুমানিক ২ শতাংশ। তবে অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়া অন্যান্য হাউজিংয়ে ভাড়া গত প্রান্তিকগুলোর তুলনায় বাড়তে পারে ৫-৮ শতাংশ।
আবাসন বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় দেশটির শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দেশটির প্রোপার্টি ডেভেলপার ইমার প্রোপার্টিজের শেয়ারের দাম ১৫ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো বেড়েছে। গত সপ্তাহে এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বেড়েছে ৩২ শতাংশ।
ভারতীয় উপমহাদেশ ও ইরান থেকে দুবাইয়ে যাতায়াতব্যবস্থা ভালো থাকায় এ দুই অঞ্চলের নাগরিকরাই দেশটিতে বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক
পরিস্থিতি কিছুদিন আগে অস্থির থাকায় সেখানকার নাগরিকরাও দুবাইয়ে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। সে সময় দুবাইয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক ছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ঋণসংকটে পড়লে ডলারের বিনিময় হারও হুমকির সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কিন্তু গালফ অর্থনীতির বাজেটে স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। রয়টার্সের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে করা জরিপের ভিত্তিতে দেখা যায়, চলতি বছর আরব আমিরাতের জিডিপি ৫ শতাংশের বেশি হবে। এ কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় গালফ রাজ্যগুলো সহজেই অর্থনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সক্ষম। এটিই বিশ্বের অন্য দেশগুলোকে এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলে।




