বিজনেসটাইমস২৪.কম
মানিকগঞ্জ, ১৫ আগস্ট:
আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহনের বাড়তি চাপ সামলাতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ ও স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এর মধ্যে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো, যানজট নিরসনে সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ, ভারি যান থেকে বিকল্প পথে ছোট যান পারপার, চাঁদাবাজি ও কৃত্রিম যানজট নিয়ন্ত্রণ, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রীবহন ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে মনিটরিং ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য।
এছাড়াও, কার্যক্রম জোরদার করতে ভ্রাম্যমান আদালত সক্রিয় রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা অফিসের ডিজিএম শাহাদত হোসেন জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে পরাপারের লক্ষ্যে গত ৩১ জুলাই মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মুনশী শাহাবউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেনকে আহ্বায়ক করে ‘ফেরি ঘাট ব্যবস্থাপনা’ কমিটি গঠন করা হয়। পুলিশ প্রশাসন, বিআইডাব্লিউটিসি, বিআইডাব্লিউটিএ, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধি এই কমিটির সদস্য রয়েছেন।
ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নৌ-রুট সচল রাখার জন্য সার্বক্ষণিক দুইটি ড্রেজার ঘাটে নিয়োজিত রাখা হয়েছে। ঈদের তিন দিন আগে ও তিন দিন পর পর্যন্ত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুট দিয়ে ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তবে পঁচনশীল জাতীয় দ্রব্যবহনকারী ট্রাকের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
চাঁদাবজি ও কৃত্রিম যানজট নিয়ন্ত্রণসহ যানবাহনের লাইন সঠিক রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্য কাজ করে যাচ্ছে। ঘাটের প্রধান সড়কে অস্থায়ী ডিভাইডার নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে লাইন ভেঙে কোনো গাড়ি আগে আসতে না পারে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করতে লঞ্চ মালিকদের অবগত করার পর তা মনিটরিং করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ওই সভায় ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। এজন্য বহরে ফেরি বাড়ানো হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকে ৯টি রো রো ও ২টি কে-টাইপসহ ১১টি ফেরি যানবাহন পারাপার নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া, নারায়ণগঞ্জ ডর্ক ইয়ার্ড থেকে ছেড়ে আসা রো রো ফেরি কেরামত আলী বৃহস্পতিবার ও এনায়েতপুরী শুক্রবার বহরে যোগ দেবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার সকালে দৌলতদিয়ায় বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান নামে রো রো ফেরি বিকল হলে উদ্ধারকারী জাহাজ ফেরিটিকে পাটুরিয়ায় টেনে আনে। ফেরিটিকে ৫নং ঘাটে বেঁধে ভাসমান কারখানা মধুমতিতে মেরামত করা হচ্ছে। এতে ওই ঘাট দিয়ে ফেরিতে যানবাহনের ওঠানামা বন্ধ রয়েছে।
পারাপারের জন্য আসা ছোট গাড়িগুলো বিকল্প রাস্তায় এনে ফেরি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক যানবাহন তুলে দেওয়ার হচ্ছে। তবে সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখায় সংশ্লিষ্ট মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত পাটুরিয়া ঘাটে পারের অপেক্ষায় থাকা বাস ও ছোট গাড়ির লাইন প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ হয়েছে। সাধারণ পণ্যবাহী প্রায় দুইশ’ ট্রাক টার্মিনালে পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছে। যানবাহন চাপ বৃহস্পতিবার থেকে আরো বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, বাড়তি নিরাপত্তার জন্য ঘাটে র্যাব ও আমর্ড পুলিশসহ বিপুল সংখ্যক আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজীরহাট রুটে লঞ্চযোগে যাত্রী পারাপারে সর্তক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।




