বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসাটা পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক : খুজিস্তা নূর-ই-নাহরিন

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২:

পদ্মাসেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসাটা পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন মডার্ন সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুজিস্তা নূর-ই-নাহরিন।

তিনি আরো বলেন, শেয়ারবাজার ও অর্থনীতি উন্নয়নে পদ্মাসেতু বিরাট একটা ভূমিকা পালন করবে। কারণ দেশের একটি বড় অংকের টাকা এখাতে রোলিং হবে । তখন দেখা যাবে এর প্রভাবটা পুঁজিবাজারেও পড়বে। যা গত দুই-তিনদিনের লেনদেনের চিত্র দেখলেই প্রতিফলিত হয়।

পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বিজনেসটাইমসের রিপোর্টার কল্পনা আলমের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। এছাড়া তার সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে এসেছে শেয়ারবাজারের সার্বিক অবস্থা, ভবিষ্যৎ গতি-প্রকৃতিসহ নানা দিক।

বিজনেসটাইমস : বর্তমান বাজার পরিস্থিতি কিভাবে দেখছেন?

খুজিস্তা নূর-ই-নাহরিন : বর্তমানে আমাদের দেশের অর্থনীতিতে পজিটিভ ধারা বিরাজ করছে। কারণ মানি মার্কেট-স্বর্ণবাজার যা-ই বলেন না কেন সব কিন্তু ভালোর দিকেই। সবচেয়ে পজিটিভ দিকটা হলো পদ্মাসেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসাটা। কারণ শেয়ারবাজার ও অর্থনীতি উন্নয়নে পদ্মাসেতু কিন্তু বিরাট একটা ভূমিকা পালন করবে। দেশের একটি বড় অংকের টাকা রোলিং হবে এক্ষেত্রে। তখন দেখা যাবে এর প্রভাবটা পুঁজিবাজারেও পড়বে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠান জড়িত তারা কিন্তু বাজারে এখন বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। গত দুই-তিন দিনের লেনদেন দেখলেই তা স্পষ্ট বোঝা যায়। এছাড়া অনেক পুরনো বিনিয়োগকারী যারা মার্কেট থেকে চলে গিয়েছিল তারা আবার ফিরে আসছে। সবদিক বিবেচনায় আমি বলবো আগের তুলনায় বাজার এখন বেশ পজিটিভ।

বিজনেসটাইমস : গত সপ্তাহ দুয়েক ধরে বাজার উর্ধ্বমুখী রয়েছে। এতে করে বাজার  স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে বলে আপনি কি মনে করেন?

খুজিস্তা নূর-ই-নাহরিন : আপনি ২০১০ সালের শেয়ার বাজারের কথা চিন্তা করেন। ওই সময় কিন্তু সূচক ৯ হাজারের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। পরে সেটি পড়তে পড়তে ৩-৪ হাজারের কাছাকাছি চলে এসেছিল। বেশ কিছুদিন ধরেই আমরা দেখছি মার্কেটে স্থবরিতা বিরাজ করছে। বেশিরভাগ শেয়ারের দামই কিন্তু উর্ধ্বমুখী ছিল। এই দাম বাড়াটা কিন্তু খুবই স্বভাবিক একটি ব্যাপার। অনেক শেয়ার আছে দেখবেন যেগুলো প্রকৃত সম্পদ মূল্যের  কাছাকাছি। সব শেয়ারই যে সঠিক  দামে আসছে তা কিন্তু নয়। অনেক শেয়ার আছে যেগুলো অনেক নিচে নেমে আছে। আমি এসব ঘটনাগুলোকে খুবই স্বাভাবিকভাবে দেখছি।

বিজনেসটাইমস : শেয়ার ধারণে ব্যর্থ পরিচালকদের পদ বতিলের জন্য এসইসি নির্দেশনা দিয়েছে। এর ফলে বাজারে কি কোনো প্রভাব পড়বে?

খুজিস্তা নূর-ই-নাহরিন : অবশ্যই প্রভাব পড়বে। কারণ এটা কোনো অর্থনৈতিক ব্যাপারের মধ্যে পড়ে না। এটি কিন্তু একজন পরিচালকের ক্ষেত্রে সোশ্যাল ভ্যালুও ক্যারি করে। আর শেয়ার ধরে রাখার জন্য পরিচালকরা কিন্তু বাধ্য হবে টুসিসি করতে। যখন একজন পরিচালক টুসিসি রাখবে তখন কিন্তু তার বাধ্যবাধকতা অনেক বেড়ে যাবে। এই জিনিসটা যখন কারেকশন হবে যে ২% শেয়ার ধরে রাখতে হবে তাহলে কিন্তু তাদের দায়িত্বটা অনেক বেড়ে যাবে। আগে অনেকেই এই জিনিসগুলো নিয়ে খেলত। এখন আর পারবে না। এছাড়া মনিটরিং ব্যবস্থাও কিন্তু এখন অনেক জোরালো হচ্ছে। তো সব কিছুই এখন শেয়ার মার্কেটের জন্য পজিটিভ হচ্ছে।

বিজনেসটাইমস : অমনিবাস অ্যাকাউন্টের অনিয়মের ক্ষেত্রে এসইসি ১৪ জন বড় বিনিয়োগকারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এতে করে বাজারে কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা।

খুজিস্তা নূর-ই-নাহরিন : অবশই ইতবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ শেয়ার বাজার কিন্তু এখনও গ্রোয়িং স্ট্যাবল নয়। বিভিন্ন প্রসেসিং-এর মাধ্যমে এটি কিন্তু স্ট্যাবিলিটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যে ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে এতে করে কিন্তু সবার ভেতর আস্থাটা ফিরে আসতেছে যে, অন্যায় করে কেউ পার পাবে না।

বিজনেসটাইমস : ব্যাংক এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ডের খাতগুলো অধিক হারে বাড়ছে। এক্ষেত্রে আপনার মতামত কি?

খুজিস্তা নূর-ই-নাহরিন : ব্যাংক এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো কিন্তু অনেক পড়ে আছে। কিছু কিছু মিউচ্যুয়াল ফান্ড আছে যেগুলো প্রকৃত সম্পদ মূল্যের নিচে এবং তাদের ফেস ভ্যালুও অনেক নিচে নেমে গেছে। তবে তা একটি সময় উপরে উঠবে বলে আমি মনে করি।

বিজনেসটাইমস :  সাধারণ বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

খুজিস্তা নূর-ই-নাহরিন : সাধারন বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে আমি সবাইকে একটি কথাই বলি, আপনাদের দৈনন্দিন খরচের টাকা নিয়ে শেয়ার বাজারে আসবেন না। যদি আপনাদের কাছে অতিরিক্ত টাকা থাকে দীর্ঘদিন খাটাতে পারবেন তাহলেই আসেন।
আর কখনোই অতিমূল্যায়িত শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন না। ফান্ডামেন্টাল দেখে শেয়ার কিনবেন। আরেকটা কথা সব সময় মনে রাখা উচিত, দুর্বল মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ করে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার সম্ভাবনা যেমন থাকে তেমনি সর্বস্বান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই পুঁজিবাজার সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে-বুঝে বিনিয়োগ করুন।

Comments

  1. নুরুল ইসলাম says:

    পদ্মাসেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ানে দেরিতে হলেও তা অবশ্যই আমাদের শেয়ারবাজার ও অর্থনীতি উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা পালন করবে। কারণ দেশীয় ব্যাংন্কে উপর অর্থ যোগানের চাপ অনেকাংশে কমে যাবে উপরোন্ত বৈদেশী মুদ্রা দেশে আসবে ।তাছাড়া ঋনের সুদের হার বেশী হওয়ায় শিল্পউন্নায়নে ব্যাংন্কের বিনিয়োগ কমে গিয়ে তা শেয়ার মাকেটে বিনিয়োগ হবে এবং হচ্ছে তাই শেয়ারবাজার ভাল হচ্ছে । অপর দিকে পরিচালকদের ২% শেয়ার ধারনের বাধ্যবাদকতা ও শেয়ার ধারণে ব্যর্থ পরিচালকদের পদ বতিলের জন্য এসইসি দৃঢ় অবস্হান বড় বিনিয়োগকারীদের আস্তা অজরনে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছে।তারপরও ক্ষতি সহয্য করার ক্ষমতা না থাকিলে ও অতি লোভ লালন করলে শেয়ার মাকেটের সঙ্গে জড়ানো কতটুকু যুক্তি সংঙ্গত ভেবে দেখা উচিৎ।

  2. Md.Belal Faruk says:

    Thanks Nahrin mam, You are trying to focus a stable capital market.

নুরুল ইসলাম শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

*


*