মুখ থুবড়ে পড়ছে জামদানি শিল্প

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ১৪ অক্টোবর, ২০১২:

বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর অনেক উন্নত রাষ্ট্রে জামদানি শাড়ির ব্যাপক চাহিদা সুপ্রাচীনকাল হতে এখন পর্যন্ত ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কিন্তু এ শিল্প প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব, ব্যাংকঋণের অপ্রতুলতা, উচ্চ সুদহার, গ্রেস পিরিয়ড কম, শাড়ি রপ্তানির যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা, অর্থশালী ও ভালো উদ্যোক্তার অভাব, সুতা ও কাঁচামালের সমস্যা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাব, শাড়ির মান উন্নয়নে গবেষণাগার না থাকা, তাঁতিদের কারখানা ও বাসস্থানের সমস্যাসহ নানা কারণে মুখ থুবড়ে পড়ছে জামদানি শিল্প।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার নোয়াপাড়ার তারাবো বিসিক জামদানি শিল্প নগরী, তারাবো, বরপা, রূপ্সী, ভূলতা, গাউসিয়া, সোনারগাঁও উপজেলার খিদিরপুর জামদানি পল্লী এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ বিভাগের বিশেষ পরিদর্শনে এসব তথ্য ওঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই পরিদর্শন প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, জামদানি ক্লাস্টার এলাকায় প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার তাঁত এবং ৫০ থেকে ৬০ হাজার তাঁতি সরাসরি কর্মরত। জামদানি শিল্প ও ব্যবসায়ের সঙ্গে সামগ্রিকভাবে প্রায় এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

এ শিল্প ক্লাস্টারে শুধু মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, উত্তরা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক মাত্র দুই কোটি ৮৫ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করেছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। প্রতিটি তাঁতের বিপরীতে দু’জন তাঁতি (ওস্তাদ-সাগরেদ) কর্মরত থাকে যার প্রায় ২৫ শতাংশ মহিলা তাঁতি। জামদানি শিল্পের প্রায় ২০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা।

বাংলাদেশে এক সময় মসলিন শাড়ি তৈরি হতো। যে শাড়ি একটি দিয়াশলাই বাক্সের মধ্যে রাখা যেত এবং শাড়ি খুব উন্নত ছিল। এ শাড়ির চাহিদা বাংলাদেশে পূরণ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হতো; অথবা বিদেশিরা এখান থেকে নিয়ে যেত। শাড়িগুলো তৈরি হতো হাতে। কোনো মেশিনের ছোয়া ছিল না। বৃটিশ আমলে এই শাড়ির কদর এক সময় প্রচুর বেড়ে যায়। তখন ইংরেজরা জাহাজ বোঝাই করে ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই শাড়ির ব্যবসা করত।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইংরেজরা দেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় সে সময় যারা মসলিন শাড়ি তৈরি করত তাদের সব শ্রমিকের বৃদ্ধা আঙুল কেটে দেয়, যাতে আর কেউ এই শাড়ি বুনতে না পারে। ফলে এক সময় মসলিন শাড়ি উৎপাদন ও তৈরি বন্ধ হয়ে যায়।

এই ঘটনার দীর্ঘদিন পর মসলিন শাড়ি তৈরির শ্রমিকদের উত্তরসূরিরা মসলিন শাড়ির আদলে আবার শাড়ি উৎপাদন শুরু করেন। তখন এর নামকরণ করা হয় জামদানি যা আজ জামদানি শাড়ি হিসেবে প্রচলিত।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*