ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন গাইবান্ধার মৃৎশিল্পীরা

বিজনেসটাইমস২৪.কম
গাইবান্ধা, ১৫ অক্টোবর, ২০১২:

কয়েকদিন পরেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব সারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে কেন্দ্র করে তাই গাইবান্ধা জেলার মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছে। মাটিসহ নানা জিনিষের খেলনা তৈরি করে গ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এসব মৃৎ শিল্পীরা বংশ পরস্পরায় তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে।

উৎসবকেন্দ্রিক মেলাকে কেন্দ্র করে মাটির তৈরি দ্রবাদির প্রতি কদর কম-বেশি সকলেরই আছে। আর এই পেশার সাথে বাঙ্গালির নিজস্ব কৃষ্টি ও গ্রাম বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যের সাথে জড়িয়ে আছে চারু, কারু ও মৃৎ শিল্প। এই মৃৎ শিল্পের সাথে জীবন জীবিকাকে জড়িয়ে এখনও গাইবান্ধার বিভিন্ন অঞ্চলে বিরুদ্ধ পরিবেশেও নিজ পেশাকে আঁকড়ে আছে কতিপয় কুম্ভকার পরিবার।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সাড়ে ৮শ পরিবার এখনও মৃৎশিল্প ও নানা খেলনা তৈরির কাজে রয়েছে। নানা প্রতিকূলতা সত্বেও এখনও তারা এই পৈত্রিক পেশাকে আঁকড়ে রেখেছে। বিভিন্ন আকর্ষণীয় আকারে মাটি দিয়ে তৈরি এবং চারু ও কারু পণ্যের পাশাপাশি শোলা, বাঁশ, কাঠ, লোহা, বেত ও তালপাতার তৈরি নানা খেলনা তৈরিতে ইতোমধ্যে দক্ষতা অর্জন করেছে।

তাদের উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে মাটির তৈরি বর্ণালী খেলনা, পুতুল, শোলার তৈরি ফুল ও পশুপাখি, রিক্সা, ঘোড়া, পশুর পেটের চামড়ায় তৈরি ঢোলগাড়ী, বাঁশের বাশি, তালপাতার ক্যাচ্ ক্যাচি পাখি, কাগজের বাহারী ফুল, লৌহ নির্মিত বিভিন্ন সামগ্রীসহ অনেক কিছু।

বিভিন্ন সময়ে গ্রামীণ মেলাগুলো হয়ে থাকে সেসব মেলাতেই এসব খেলনা বেচা কেনা হয় বেশি। সে কারণে তাদের পণ্যের বেচা কেনার ভরা মৌসুম হচ্ছে ফাল্গুনÑজ্যৈষ্ঠ ৪ মাস এবং আশ্বিন, অগ্রহায়ণ, পৌষ ও মাঘ এই ৪ মাস।

বাদিয়াখালী ইউনিয়নের কারিগর মঞ্জুরানী পাল জানায়, বান-বন্যায় এসব জিনিষ তৈরি করাও সম্ভব হয় না বলে মৌসুমের আগেই খেলনা বানিয়ে মজুত করে রাখতে হয়। দরিদ্র খেলনার কারিগররা অর্থাভাবে চাহিদা মোতাবেক পণ্য মজুত রাখতে পারেনা বলেই তারা চিরায়ত অভাবমুক্ত হতে পারছে না।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*