মাংস কতটুকু খাবেন

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ডেস্ক, ২৫ অক্টোবর, ২০১২:

গরু, ভেড়া, খাসি ও মহিষের মাংস মানুষের শরীর গঠনের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। উৎকৃষ্ট শ্রেণীর (শ্রেণী-১) প্রোটিনসহ প্রায় ১২ ধরনের খাদ্যগুণ রয়েছে তাতে। শিশু ও গর্ভবতী নারীসহ সব বয়সী মানুষই সুস্বাস্থ্য রক্ষায় মাংস খেতে পারেন। মাংস কীভাবে রান্না করতে হবে, কতটুকু খেতে হবে আর সংরক্ষণ করতে হবে কীভাবে-সে সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা।

ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু হাদী নূর আলী খান বলেন, সুঠাম ও সুস্থ শরীরের জন্য মাংস প্রথম শ্রেণীর প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য। এতে থাকা জিঙ্ক ও লোহা শরীরে রোগ প্রতিরোধ করে। এর অভাবে দেহে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। তাই বাড়ন্ত শিশু-কিশোর-কিশোরীদের খাদ্য তালিকায় মাংস ও কলিজা রাখা একান্ত প্রয়োজন। মাংসে থাকা ফলিক অ্যাসিড স্নায়ু রোগে আক্রান্ত শিশুদের স্নায়ু গঠন করে।

মাংস গর্ভবতী মা ও গর্ভের শিশুর সঠিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এতে থাকা ভিটামিন-১২ শরীরের রক্ত পরিসঞ্চালন স্বচ্ছ করে। আর এর অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। মাংসে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড শস্যজাতীয় প্রোটিনের চেয়ে অনেক উন্নত। মাংস দেহে অধিক শক্তি সরবরাহ করে। মাংসের চর্বি দেহে ভিটামিন-এ সরবরাহ করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, কার্ডিয়াক, কিডনি, রেনাল ফেইলিউর ও ডায়াবেটিক রোগী মাংস খেলেও যে অংশে চর্বি কম থাকে সে অংশের (পিঠ, ঘাড় ও সামনের পা) মাংস খাওয়া উচিত। তবে ইউরিক অ্যাসিডে (এক ধরনের বাত) আক্রান্ত রোগীরা মাংস খেলেই তাদের ব্যথা অনুভূত হবে। ৪০ বছর ঊর্ধ্ব বয়সী মানুষের মাংস ক্ষতির কারণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে না খাওয়াই ভালো। তবে শিশুদের অবশ্যই খেতে হবে। দেহের ওজন বাড়াতে এবং পোড়া ঘা ও ক্ষত সারাতে মাংস উপকারী। যারা কম ক্যালরির খাদ্য খান ও প্রচুর ঘামেন, তাদের শরীরে দেখা দেওয়া জিঙ্ক ঘাটতি পূরণে মাংস খুবই উপকারী। তবে পেট ফাঁপলে ও কিডনিতে পাথর হলে মাংস বাদ দিতে হবে। বিশেষ করে বাতের রোগীদের জন্য মগজ, গুর্দা, কলিজা এবং সংরক্ষণ করা মাংস ও মাংসের স্যুপ ক্ষতিকর। লিভার, গলব্লাডার, ক্যান্সার ও প্যানথিয়াসের অসুখে প্রাণিজ চর্বি (মাংসে থাকে) বাদ দেওয়া উচিত। খেলেও প্রতিদিন ৯০-১০০ গ্রামের বেশি নয়।

মাংসের পুষ্টিগুণ রক্ষায় রান্না ও সংরক্ষণের বিষয়ে শমরিতা হাসপাতালের পুষ্টিবিদ রেহানা ফেরদৌসী মিলি বলেন, সঠিক উপায়ে ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করা না হলে মাংস মানুষের পেটে কৃমির জন্ম দেয়। বিশেষ করে গরু ও মহিষের অর্ধসিদ্ধ মাংস থেকে ফিতা কৃমি দেখা দেয়। এর ফলে খাবার হজম হয় না এবং পেটে ব্যথা, পেট খারাপ, মাথা ধরা, খিঁচুনি ও জ্বর হতে পারে। মৃদু তাপে ঢাকনা দেওয়া পাতিলে কিংবা প্রেসার কুকারে রান্না করলে বাষ্পের মাধ্যমে মাংসের খনিজ পদার্থ ও ভিটামিনগুলো উড়ে যেতে পারে না, মাংসেই থাকে। তবে বেশি তাপে রান্না করলে প্রোটিন নষ্ট হয়। রান্নার জন্য অবশ্যই ছোট ছোট টুকরা করতে হবে। কারণ এতে প্রতি টুকরায় চর্বির পরিমাণ কমে যায়। চর্বি কমাতে মাংস ভালো করে ছাঁটতে হবে। রান্নার পর মাংস ঠাণ্ডা করে খেলে জমে থাকা হলুদ চর্বি ফেলে দেওয়া যায়। তবে মাংস খাওয়ার পর চর্বি দূর করতে অবশ্যই সালাদ খেতে হবে। চর্বি কাটাতে লেবুমিশ্রিত উষ্ণ গরম পানি, লাল চা পান করা যেতে পারে।

রেহানা ফেরদৌসী মিলি বলেন, বাড়িতে মাংস সংরক্ষণের জন্য রেফ্রিজারেটরই উত্তম। কাঁচা মাংসে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে যত দ্রুত সম্ভব মাংস সংরক্ষণ করতে হবে। তবে বেশি দিন রাখলে অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় মাংসে থাকা নির্জীব জীবাণুগুলো আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। কাঁচা মাংস পাতলা কাপড় দিয়ে ঠাণ্ডা বাতাসে ঝুলিয়ে রাখা যেতে পারে। যাদের রেফ্রিজারেটর নেই, তারা মাংস বড় বড় টুকরো করে হলুদ ও লবণ মিশিয়ে আলাদা পানি না দিয়ে অর্ধসিদ্ধ করে রাখতে পারেন। এভাবে অন্তত দেড় মাস মাংস সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*