বরিশালে নারীদের হাতে তৈরি হচ্ছে স্টোনের ব্যাগ-পার্স

বিজনেসটাইমস২৪.কম
বরিশাল, ২৯ অক্টোবর, ২০১২:

বরিশাল নগরীতে উদ্যমী কিছু নারী হাতের কাজ করে স্বনির্ভর হয়ে উঠেছেন। এমন নারীরাও এখানে আছেন, যারা নীরবে-নিভৃতে একা একা বা দুই-তিন জন মিলে ঘরে বসেই হাতের কাজ করছেন। এমনি একটি হাতের কাজ হচ্ছে স্টোনের ব্যাগ।

এছাড়াও স্টোন সংযুক্ত করে তৈরি করা হয় পার্স। বাজারে স্টোনের ব্যাগ, পার্স ইত্যাদির চাহিদাও রয়েছে বেশ। নারীদের তৈরি এসব সামগ্রী নারীরাই ব্যবহার করছেন স্বাচ্ছন্দ্যে। ফলে বরিশাল শহরে স্টোনের কাজ করে বেশ কয়েকজন মহিলা সংসারে অর্থের যোগান দিয়ে সুখী জীবনযাপন করছেন। তবে তারা তাদের কাজের পরিধি আরো সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী।

এমনই একজন নারী দিপালী ঘরামী। তার স্বামী বিমল চন্দ্র দাস সামান্য বেতনে টেইলারিং-এর কাজ করেন। তাদের বসবাস নগরীর কালীবাড়ি রোডে। অভাবের সংসারে খুব কষ্ট করে জীবন চলছিল তাদের। তবুও দুই ছেলেকে তারা ভাল স্কুলে ভর্তি করান। ছোট ছেলেকে স্কুলে দিয়ে গেটে বসে থাকতেন দিপালী। আর এ সময়ই বছরখানেক আগে দিপালীর জীবনে আসে পরিবর্তন। সেখানে পরিচয় হয় আমেনা বেগম নামে একজন মহিলার সঙ্গে, যিনি দক্ষ হাতে স্টোনের কাজ করে সুনাম অর্জন করেছেন। দিপালী আমেনার কাছ থেকে বিভিন্ন রংয়ের পাথর সেটিং করা মেয়েদের ব্যাগ ও পার্স তৈরির কাজ শেখেন। এরপর থেকে দিপালীকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

বরিশাল নগরীতে এমনিভাবে একজন নারী অন্য নারীদের হাতের কাজ শিখাতে কোন কার্পণ্য করেন না। আমেনার কাছ থেকে যেমন দিপালী শিখেছেন, তেমনি দিপালীও শিখিয়েছেন কয়েকজনকে। যার মধ্যে ফাতেমা বেগম অন্যতম। ফাতেমা জানান, দিপালীর কাছ থেকে আমরা ৪ জন স্টোনের ব্যাগ ও পার্স তৈরির কাজ শিখেছি। আমরা এখন বিভিন্ন দোকান থেকে এসব কাজের অর্ডার নিয়ে জিনিস তৈরি করে সাপ্লাই দিচ্ছি।

আত্মপ্রত্যয়ী দিপালী রানী ঘরামী জানান, বাবার বাড়ির আর্থিক অবস্থা ভাল না থাকায় তিনি এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। তিনি বলেন, বিয়ের পর কিছুদিন স্বামীর সংসারে ভালই ছিলাম। পরে শহরে ঘরভাড়া ও ছেলেদের পড়াশোনার খরচে সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছিল। হাতের কাজ শিখায় এখন নিজেও টাকা রোজগার করছি। খেয়েপরে ভাল আছি। তবে সংসারের অবস্থার আরো উন্নতি করতে চাই। এজন্য আমার কাজ আরো বড় করার জন্য ব্যাংক ঋণের চেষ্টা করছি।
দিপালী, ফাতেমাসহ আরো অনেকের হাতের কাজ ইতোমধ্যেই বিক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাদের কাছে অর্ডার দিয়ে ব্যাগ নিয়ে বিক্রি করা একাধিক দোকানদার তাদের কাজে খুব সন্তুষ্ট।

সাইফুল ইসলাম নামের একজন দোকানী বলেন, এদের তৈরি স্টোনের ব্যাগ, পার্সের গুণগত মান খুব ভাল। তাদের তৈরি বাহারী ডিজাইনের এসব সামগ্রীর বেশ চাহিদা রয়েছে। বারেক আলী নামের একজন দোকান মালিক জানান, যারা ভাল মানের কাজ করেন, তাদেরকে কিছু অগ্রিম দিয়ে হলেও কাজের অর্ডার দিয়ে থাকি। তাদের পুঁজি কম বলে এ কাজে তারা বেশি আগাতে পারছে না।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মীর এ কে এম জাহিদুল কবির বলেন, এখানে বেশ কয়েকজন নারী কুটির শিল্পের কাজ করছে। এ ব্যাপারে আমরা যথাসাধ্য সহযোগিতা করছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ ব্যাংক ঋণের জন্য সহায়তা চায়নি। তিনি জানান, সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের ঋণ দিয়ে কুটির শিল্প বাঁচাতে এগিয়ে এলেও নিয়ম অনুযায়ী সঠিক কাগজের অভাবে অনেকে ব্যাংক ঋণ পাচ্ছে না।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*