শীতলক্ষ্যায় তৈরি হচ্ছে উন্নত মানের জাহাজ

বিজনেসটাইমস২৪.কম
নারায়ণগঞ্জ, ৩০ অক্টোবর, ২০১২:

শীতলক্ষ্যা নদীর তীরঘেঁষা নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও রূপগঞ্জ উপজেলায় গড়ে উঠেছে জাহাজ নির্মাণ শিল্প। এ শিল্পকে কেন্দ্র করে হাজারো মানুষের পদচারণায় এখন কর্মমুখর জনপদে পরিণত হয়েছে। এখানে ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ট্যাংকার তৈরি হচ্ছে।

শীতলক্ষ্যা নদীর তীরঘেঁষে বন্দর ও রূপগঞ্জে গড়ে উঠেছে অসংখ্য জাহাজ তৈরি ও মেরামতের কারখানা। এগুলোর মধ্যে আলিফ ডকইয়ার্ড, জননী ডকইয়ার্ড, বাদশা ডকইয়ার্ড, নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ড, বন্দর ডকইয়ার্ড, খন্দকার ডকইয়ার্ড, সাওঘাট ডকইয়ার্ড, একরামপুর ডকইয়ার্ড, শাহ আলম ডকইয়ার্ড, নারায়ণগঞ্জ ইঞ্জিনিয়ারিং ডকইয়ার্ড, জামান ডকইয়ার্ড রয়েছে। অন্যদিকে রূপগঞ্জে মাসটাং ডকইয়ার্ড, খান ডকইয়ার্ড, ফাহিম ডকইয়ার্ড, শামস ডকইয়ার্ড, তালহা ডকইয়ার্ড, আমির ডকইয়ার্ড, মালেক ডকইয়ার্ড, ফটিক ডকইয়ার্ড, ভাই ভাই ডকইয়ার্ড, মনির ডকইয়ার্ড, মাসটাং ইঞ্জিনিয়ারিং কায়েতপাড়ার জাহাজ  কারখানাগুলো অন্যতম।

ট্যাংকার শিপ, কার্গো শিপ, প্যাসেঞ্জার শিপ, ক্যাটামেরিন শিপ, ওয়াটার বাস, ফেরি, জেটি, পল্টুন, বালুবাহী ট্রলার, ড্রেজারসহ বিভিন্ন শিপ তৈরি হয় শীতলক্ষ্যার তীরে গড়ে ওঠা এসব ডকইয়ার্ডগুলোয়। জাহাজ তৈরির কারখানাগুলোর সঙ্গে সঙ্গে গর্দার ব্যবসা, লেদ মেশিন, খুচরা যন্ত্রাংশ ও পান/সিগারেটের দোকান দিয়ে এলাকার মানুষ বাড়তি উপার্জন করছে।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বন্দর ডকইয়ার্ড, খন্দকার ডকইয়ার্ড ও সাওঘাট ডকইয়ার্ড ভাড়া নিয়ে জাহাজ তৈরির কাজ করছেন থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন লিমিটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মো. আকবর হোসেন বণিক বার্তাকে জানান, একটি জাহাজ তৈরিতে সাধারণত ছয় মাস থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত সময় লাগে। তবে বিদ্যুত্ সংকটের কারণে অনেক সময় নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারেন না তারা। ৫০০ থেকে ৮০০ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ট্যাংকার শিপ তৈরিতে আট মাস লাগে।

আর ১ হাজার ৬০০ টন কিংবা তার ঊর্ধ্বে ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ট্যাংকার শিপ তৈরিতে ১৬ মাস লেগে যায়। জাহাজ তৈরির প্লেট ও মেশিনারিজ আমদানি করতে হয়। ডিজাইন, জনশক্তি, ইলেকট্রোড ও অ্যাঙ্গেল দেশে পাওয়া যায়। তারা বছরে ১০ থেকে ১২টি জাহাজ তৈরি করছেন। চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকেই বেশি অর্ডার আসে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, সরকারের সহায়তা পেলে নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা পাড়ে তৈরি জাহাজ বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব।

এ শিল্পটি নানা সমস্যায় জর্জরিত বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। রূপগঞ্জের জাহাজ মালিক সমিতির সভাপতি এবং মাসটাং ইঞ্জিনিয়ারিং ও মাসটাং ডকইয়ার্ডের স্বত্বাধিকারী সাজ্জাদ হোসেন তুহিন জানান, জাহাজ তৈরির কারখানাগুলো যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তার আশঙ্কা।

তিনি জানান, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্রের জন্য বারবার চাপ দিচ্ছে বিদ্যুত্ বিভাগ। রাজউক ও বিআইডব্লিউটিএর অনাপত্তিপত্র ছাড়া ছাড়পত্র প্রদান করছে না পরিবেশ অধিদফতর। এদিকে নদীবিষয়ক মহামান্য হাইকোর্টে বিআইডব্লিউটিএর প্রতি নির্দেশনা থাকায় তারাও অনাপত্তিপত্র দিতে পারছে না। এ কারণে তারা চরম সংকটে ভুগছেন।

লোহার মতোই কঠিন কাজ করা ব্যক্তিরা খুব ভালো নেই। সবার সঙ্গেই কথা বলে পাওয়া গেল হতাশার সুর। লোহার মতো তাদের শরীর শক্ত হলেও ঘরের খুঁটি অত্যন্ত নড়বড়ে। জীবন জিবিকা আর বাসস্থানের মান নগণ্য।

ফিটার মেহেদী হাসান ও সোবহান জানান, কাজের তুলনায় বেতন অনেক কম। তারপরও করার কিছু নেই। তাদের বেতন ১২ হাজার টাকা। ওয়েল্ডার মাহমুদ হোসেন জানান, তিনি দৈনিক ২৮০ টাকা মজুরি পান।

হেলপার জনি জানান, ৫ বছর আগে তারা দৈনিক ১৫০ টাকা মজুরি পেতেন। বর্তমানে দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি পান। তবে তারা যে পরিমাণ বেতন পান তাতে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয় বলে তারা জানান।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*